সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০
ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি, পরিবারের আহাজারি

লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি জামালগঞ্জের ১২ যুবক

  • আপলোড সময় : ১১-০৩-২০২৬ ০১:০০:৫৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১১-০৩-২০২৬ ০১:০৯:১০ পূর্বাহ্ন
লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি জামালগঞ্জের ১২ যুবক ছবি: লিবিয়ায় দালালের কাছে জিম্মি হওয়া ১২ জন।
আব্দুল্লাহ আল মামুন::
জামালগঞ্জ উপজেলার ১৩ যুবক ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন। কিন্তু স্বপ্নের ইতালি পৌঁছানোর আগেই তারা লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়েছেন। মুঠোফোনে ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করছে অপহরণকারীরা। ভিডিও কলে জিম্মি যুবকদের আর্তনাদ- “মা আমাকে বাঁচাও, বাবা আমাকে বাঁচাও। টাকা না দিলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। জায়গা-জমি, ঘরবাড়ি বিক্রি করে হলেও আমাকে বাঁচাও।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের নাজিমনগর গ্রামের কয়েকটি পরিবারের সন্তানসহ মোট ১৩ যুবক স্থানীয় মানবপাচারকারী দালালদের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। প্রতিজনের কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের ইউরোপে পাঠানোর মৌখিক চুক্তি করা হয়। দালালদের মধ্যে নাজিমনগর গ্রামের মৃত আব্দুস শহীদ (মন্টু) এর স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম, তার ছেলে হুমায়ুন এবং ভীমখালী ইউনিয়নের কলকতখাঁ গ্রামের মৃত আব্দুল বারিকের ছেলে নজরুল ইসলাম জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীদের স্বজনরা।
জিম্মি হওয়া যুবকেরা হলেন- নাজিমনগর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে নিলয় মিয়া (২২), রাশিদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩২), এখলাছ মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলাম (২৫), নূরু মিয়ার দুই ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০) ও জীবন মিয়া (২৫), টুনু মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (২৬), রাশিদ মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৮), ফয়জুন নূরের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪), শহিদ মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২৭), বাচ্চু মিয়ার ছেলে এনামুল হক (২৬), জলিল মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৯), জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নয়াহালট গ্রামের সামছু মিয়ার ছেলে আবুল হামজা (২৫) এবং সাচনা কালীবাড়ি গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে আবুল কালাম।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে আবুধাবি, কুয়েত ও মিশর হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান। সেখানে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি মাফিয়া চক্র তাদের জিম্মি করে। জিম্মি হওয়ার পর প্রতিজনের মুক্তিপণ হিসেবে প্রথমে ২৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দরকষাকষির পর ১২ লাখ টাকায় ছেড়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। জানা গেছে, জিম্মিদের মধ্যে নূরু মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও পরে লিবিয়ার পুলিশের হাতে আটক হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। জিম্মি যুবকেরা বর্তমানে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে আটক রয়েছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। মাফিয়া চক্র ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে পরিবারের কাছে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি পরিবার সন্তানের উপর নির্যাতন বন্ধের আশায় কিছু টাকা পাঠিয়েছেন। অনেক পরিবার জায়গা-জমি ও ঘরবাড়ি বিক্রি করে এবং সুদের মহাজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে মুক্তিপণ জোগাড়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু কীভাবে তাদের সন্তানদের উদ্ধার করবেন, তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।
জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়ার আবুল হামজা তার বিধবা মায়ের একমাত্র সন্তান। ছেলের মুক্তির জন্য অসহায় মা মাফিয়াদের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, “বাবা আমার কাছে টাকা নাই। আমি ভিক্ষা করে তোমাদের টাকা দেব, আমার হামজারে আর মারো না।” এভাবেই প্রতিটি পরিবারের মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনেরা আহাজারি করছেন। আবার অনেকেই এ প্রতিবেদকের কাছে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, সাংবাদিকের সাথে কথা বলার বিষয়টি যদি মাফিয়া চক্র জেনে যায় তাহলে তাদের সন্তানের ওপর আরও নির্যাতন চালাবে। এ জন্য তারা কথা বলতে চাইছেন না। অপরদিকে, স্থানীয় দালাল চক্র ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানাগেছে।

এ ব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বন্দে আলী মিয়া বলেন, বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স